চট্টগ্রামে মা-মেয়ে খুন
দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড রায় শুনে পরস্পরকে দোষারোপ, হাতাহাতি
চট্টগ্রাম নগরের সিডিএ আবাসিক এলাকার রেজিয়া বেগম ও তাঁর মেয়ে সায়মা নাজনীন নিশাত (১৬) হত্যা মামলার দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হাবিলদার আবুল বাশারের বখাটে ছেলে আবু রায়হান (২৩) ও নগরের খুলশী এলাকার একটি রেস্টহাউসের গাড়িচালক মো. শহীদ (২৭)। একই সঙ্গে তাদের পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মহিতুল হক এনাম চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় শুনে আদালতে উপস্থিত দুই আসামি ক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে একে অন্যকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। পরে পুলিশ তাদের দ্রুত হাজতে পাঠিয়ে দেয়।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আইয়ুব খান জানান, মা-মেয়ে খুনের ঘটনায় আসামি রায়হান ও শহীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে পিপি বলেন, বাদীপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ২৪ মার্চ সকালে চট্টগ্রাম মহানগরের আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর সড়কের ১২৯ নম্বর যমুনা নামের একটি ভবনের চতুর্থ তলায় মা রেজিয়া বেগম ও মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা নাজনীন নিশাতকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিশাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনায় রায়হান তার বন্ধু শহীদকে নিয়ে এ খুনের ঘটনা ঘটায়। মা-মেয়েকে কুপিয়ে ও রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে খুনিরা পালিয়ে যায়।
খুনের ঘটনায় এই দুজনকে আসামি করে নগরের ডবলমুরিং থানায় মামলা দায়ের করেন রেজিয়া বেগমের স্বামী ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রেজাউল করিম। ঘটনার দুই দিন পর ঢাকা থেকে রায়হান ও চট্টগ্রাম থেকে শহীদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে গত বছরের ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
গত বছরের ৪ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর ৩৭ সাক্ষীর মধ্যে ৩০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গতকাল আদালত রায় ঘোষণা করেন।
পাবলিক প্রসিকিউটর আইয়ুব খান জানান, নাজনীনের কাছে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত এবং তার বাবার কাছে অপমানিত হওয়ার পর রায়হান ক্ষুব্ধ হয়ে খুনের পরিকল্পনা করে এবং শহীদকে সঙ্গে নেয়। রায় ঘোষণার পর এজলাসের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মামলার বাদী রেজাউল করিম। তিনি বলেন, 'দুই খুনির ফাঁসির আদেশ হয়েছে, আমি দ্রুত রায় কার্যকর দেখতে চাই।'
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার বলেন, 'ন্যায়বিচার পেয়েছি। এখন আইনি প্রক্রিয়া শেষে রায় কার্যকর দেখতে চাই।'
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট স্বভুপ্রসাদ বিশ্বাস বলেন, 'রায়ে আসামিরা সংক্ষুব্ধ। যে অভিযোগে রায় দেওয়া হয়েছে, তাতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সঙ্গে অধিকাংশ সাক্ষীর সাক্ষ্যের প্রমাণ নেই। এ কারণে আসামিপক্ষ দ্রুত উচ্চ আদালতে আপিল করবে। আশা করি সেখানে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে।'
দুই আসামির হাতাহাতি : রায় ঘোষণার পরপরই দুই আসামি আদালতের কাঠগড়ায় বিতণ্ডা শুরু করে। একপর্যায়ে হাতাহাতিও করে। শহীদের অভিযোগ, ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে রায়হান তাকে দোষারোপ করেছে। রায় ঘোষণার পরপরই বিচারক এজলাস ছেড়ে গেলে পুলিশ আসামিদের আদালতের কাঠগড়া থেকে বের করে আনে। এ সময় শহীদ উচ্চ স্বরে বলতে থাকে, 'আমি নির্দোষ, সব অন্যায়। আমাকে ধরে এনে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, এটা ন্যায়বিচার নয়।'
আদালতের বাইরে আসামিপক্ষের কেউ একজন শহীদের কথার পাল্টা জবাব দিলে শহীদ তার সঙ্গেও বিতণ্ডা শুরু করে। এ সময় পুলিশ দ্রুত আসামিদের সরিয়ে নেয় এবং স্বজনদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আদালত ভবনের তৃতীয় তলা থেকে নিচতলায় আসা পর্যন্ত চিৎকার করতে থাকে।
FB LIke Bottom
Saturday, October 3, 2015
চট্টগ্রামে মা-মেয়ে খুন দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড রায় শুনে পরস্পরকে দোষারোপ,
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment